গেস্ট ব্লগিং কী - সুবিধা অসুবিধা ও গুগল কনটেন্ট পলিসি কি

প্রিয় পাঠক এখন আপনি যেই আর্টিকেলটি বা পোস্টটি পড়তে যাচ্ছেন, এই পোষ্টের মধ্যে গেস্ট ব্লগিং কী - সুবিধা অসুবিধা ও কিভাবে করবেন - গুগল কনটেন্ট পলিসি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে সকল পর্যায়ের তথ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

গেস্ট ব্লগিং কী - সুবিধা অসুবিধা ও কিভাবে করবেন - গুগল কনটেন্ট পলিসি

আপনি যদি শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকেন তাহলে গেস্ট ব্লগিং কী - সুবিধা অসুবিধা ও কিভাবে করবেন - গুগল কনটেন্ট পলিসি কি তা বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। আশা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

ভূমিকা

গেস্ট ব্লগিং কি তা আমরা অনেকেই জেনে থাকি আবার গেস্ট ব্লগিং কথাটি শুনলে পরিচিত মনে হয়। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে গেস্ট ব্লগিং নতুনও মনে হয়ে থাকে। মূলত যারা গেস্ট ব্লগিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না তাদেরকে নিয়েই আজকের এই আর্টিকেল। আমাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা গেস্ট ব্লগিং করে থাকে। নিজেদের ব্লগিং ওয়েবসাইট এর অডিয়েন্স বাড়ানোর জন্য এবং ডোমেইন অথরিটি বৃদ্ধির জন্য অন্যের ব্লগ সাইটে নিজস্ব কন্টেন্ট প্রকাশ করাকে বলে থাকি গেস্ট ব্লগিং।

গেস্ট ব্লগিং কী

কোন পোস্ট লেখার ক্ষেত্রে আপনার মনের মাঝে প্রশ্ন আসতেই পারে যে গেস্ট ব্লগিং আসলে কি?সাধারণত গেস্ট পোস্টিংকে গেস্ট ব্লগিং বলা হয়। আবার গেস্ট ব্লগিং হচ্ছে অন্যের ওয়েবসাইটে গেস্ট অথবা অতিথি হিসেবে আর্টিকেল লিখে দেওয়াকে বোঝানো হয়। এখন মনে করুন, আপনি একজন আর্টিকেল রাইটার কিন্তু আপনার কোন নিজস্ব  ব্লগিং ওয়েবসাইট নেই। এখন যদি আপনি কোন ব্লগ পোস্ট লিখতে চান তাহলে আপনাকে অন্যের ওয়েবসাইটে গেস্ট অথবা অতিথি হিসেবে আর্টিকেল লিখে দিতে হবে।
সুতরাং, গেস্ট লগইন হচ্ছে অন্যের ওয়েবসাইটে অতিথি হয়ে নিজের লিখিত আর্টিকেল বা কনটেন্ট প্রকাশ করা এবং তার বিনিময়ে নিজের ব্লগিং ওয়েব সাইটের লিংক বিল্ডআপ করা। এই বিষয়টি একজন কনটেন্ট বা আর্টিকেল রাইটারের জন্য খুবই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার এই মার্কেটিং পলিসি এর ভূমিকা তখনই কার্যকর হবে যখন আপনি অফ পেজ এসে করতে যাবেন। তাছাড়াও এই মার্কেটিং এর মাধ্যমে কিছু ব্যাকলিংক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যার মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইটে অথরিটি পাওয়া যায়।

গেস্ট ব্লগিং এর সুবিধা অসুবিধা

গেস্ট ব্লকিং কি এই বিষয়ে পড়ে আশা করি বুঝতে পেরেছেন। এবার আমরা জানবো গেস্ট ব্লগিং এর সুবিধা ও অসুবিধা। প্রতিটি ক্ষেত্রে বা কাজে যেমন সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে তেমনি গেস্ট ব্লগিং-এ কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে।

সুবিধাঃ গেস্ট ব্লগিং এর সুবিধা হচ্ছে আপনি যখন অন্য কারো ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লিখে দেবেন সেক্ষেত্রে আপনার দেখার প্রয়োজন হবে না যে আর্টিকেল থেকে সে কত টাকা আয় করছে বা ওই আর্টিকেল থেকে আয় হচ্ছে কিনা। আপনার শুধু এতোটুকুই কাজ যে আপনি শুধু আর্টিকেল লিখে দিবেন তার বিনিময়ে মাস শেষে হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট পেয়ে যাবেন। এছাড়াও এর বিশেষ কিছু সুবিধা রয়েছে তা হচ্ছে-
  • নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করা যায়।
  • নিজের বা নিজস্ব সাইটের জন্য অডিয়েন্স বা ট্রাফিক বাড়ে।
  • নিজস্ব রাইটিং এ দক্ষতা বাড়ে।
  • আর্টিকেল রাইটিং এ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অন্যের সাথে শেয়ার করা যায়।
  • অন্যান্য রাইটারদের বা ব্লগারদের কাছ থেকে কিছু টিপ এন্ড ট্রিকস সম্পর্কে জানা যায়।
  • বিভিন্ন ব্লগারদের সাথে যোগাযোগ সৃষ্টি করা।
  • নিজস্ব ওয়েবসাইটের জন্য লিঙ্ক বিল্ড আপ করা।
  • নিজস্ব ওয়েবসাইটের জন্য একচুয়াল কাস্টমার টার্গেট করা যায়।
অসুবিধাঃ যখন আপনি অন্যের ওয়েবসাইটে আর্টিকেল রাইটার হিসেবে কাজ করবেন তখন আপনাকে বিভিন্ন টার্গেট বা চাপের সম্মুখীন হতে হবে। কেননা আপনি যা আন্ডারে আর্টিকেল রাইটার হিসেবে কনটেন্ট লিখে দেবেন তিনি আপনাকে আর্টিকেল লেখার মাধ্যমে একটি এমন পেমেন্ট করবে। এই জন্য অন্যের ওয়েবসাইট রীতিনীতি বা নিয়ম কানুন অনুযায়ী আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখে দিতে হবে। প্রতিমাসে যতগুলো আর্টিকেল লিখা টার্গেট দিবে ঠিক ততগুলো আর্টিকেল লিখে দিতে হবে।

এছাড়াও আপনার একটি আর্টিকেল এর মাধ্যমে তারা হাজার হাজার টাকা ইনকাম করে থাকেন কিন্তু আপনি আপনি যে পরিমাণ এমন প্রতি মাসে পান ঠিক সেই পরিমাণ এমাউন্টটি আপনি পাবেন এর আপনাকে প্রদান করবেন না। এটি হচ্ছে গেস্ট ব্লগিং এর সবচেয়ে বড় অসুবিধা।

গেস্ট ব্লগিং কিভাবে করবেন

উপরোক্ত বিষয় পড়ে এ পর্যন্ত ব্লগিং কি এবং ড্রেস ব্লগিং এর সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে আশা করি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এবার আমরা জানবো, গেস্ট ব্লগিং কিভাবে করবেন বা গ্যাস ব্লগিং কিভাবে করতে হয়। গেস্ট ব্লগিং করার জন্য অনেক কিছু মাধ্যম রয়েছে যেমন আপনি যে একজন আর্টিকেল রাইটার সেই বিষয়টি অন্য কোন ওয়েব সাইটে গিয়ে ওয়েবসাইটের মালিকের কাছে জানানো যে আমি একজন আর্টিকেল রাইটার।

এরপর তাদের আন্ডারে থেকে আর্টিকেল রাইটার হিসেবে জব করা। অন্য আরেকটি উপায় হল যদি আপনার ফেসবুক পেজ থাকে তবে সেই পেজের মাধ্যমে আপনি আর্টিকেল রাইটারের একটা মার্কেটিং করতে পারেন। তাছাড়াও ফেসবুকে কিছু গ্রুপ রয়েছে যেগুলোতে পোস্ট করে থাকে যে অমুক ওয়েবসাইটের জন্য কিছু সংখ্যক আর্টিকেল রাইটার প্রয়োজন। আপনাকে সেই গ্রুপে জয়েন হয়ে থাকতে হবে। আশা করি, গেস্ট ব্লগিং কিভাবে করতে হয় সেটি বুঝতে পেরেছেন।

গেস্ট ব্লগিং করে আয়ের ৪টি উপায়

  • ফেরি করে কনটেন্ট বিক্রি করা
  • মার্কেটপ্লেসে কনটেন্ট বিক্রি করা
  • ফুল টাইম জব করা
  • হাফ টাইম জব করা

নিজের ওয়েবসাইটে লিখবেন না গেস্ট ব্লগিং করবেন

যখন আপনি একজন আর্টিকেল রাইটার এবং তার সাথে আপনার নিজস্ব একটি ব্লগিং ওয়েবসাইটও রয়েছে। তখন আপনার মাথায় চিন্তা আসতে পারে যে নিজেরও ওয়েবসাইটে লিখালিখি করবো নাকি অন্যের ওয়েবসাইটে ব্লগার হিসেবে লেখালেখি করব। আপনার ওয়েবসাইট যদি নতুন অবস্থানে থাকে তাহলে উচিত হবে অন্যের ওয়েবসাইটে গেস্ট ব্লগার হিসেবে কাজ করা।

আবার যখন আপনার ওয়েবসাইটটি একটি ভালো পর্যায়ে চলে যাবে তখন আপনি গেস্ট ব্লগিং ছেড়ে আপনার নিজস্ব ওয়েব সাইটে আর্টিকেল লিখে পাবলিশ করতে থাকবেন। তাহলে সেটি আপনার জন্য অনেক উপকারে আসবে। আশা করি এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

অ্যাডভান্স আর্টিকেল ফরমেটিং টেককিনকস

আপনি যদি আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখে প্রতি মাসে অনেক বেশি ইনকাম করতে চান তাহলে এই আর্টিকেল লিখা নিয়ে কিছু এডভান্স নিয়মকানুন রয়েছে যেগুলো বিষয় মেনে চললে লাখ টাকা ইনকাম করা সম্ভব।
  • পাঠকের কনটেন্ট পড়ার প্রতি ইন্টারেস্ট ধরে রাখতে হবে।
  • ম্যাজিকাল টাইটেল নির্বাচন করতে হবে।
  • আপনি আমি শব্দের ব্যবহার করতে হবে।
  • অন্যান্য পেজের লিংক করতে হবে।
  • একশন বাটন যোগ করতে হবে।
  • এসইও অপটিমাইজেশন করতে হবে।
  • পরিশেষে এডভান্স অ্যাড অপটিমাইজেশন করতে হবে।
উপরোক্ত নিয়ম মেনে চললে খুব অল্প সময়ে অ্যাডভান্স আর্টিকেল ফরম্যাটিং এর মাধ্যমে আর্টিকেল রাইটিং করে অনেক বেশি ইনকাম করতে পারবেন। আশা করি এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

গুগল কনটেন্ট পলিসি

ওয়েবসাইটে আর্টিকেল রাইটিং কন্টেন রাইটিং এর জন্য গুগলের কিছু নীতিমালা রয়েছে সেই নীতিমালা গুলোকে google কন্টেন্ট পলিসি বলা হয়। গুগলের নীতিমালা মেনে না চললে google আপনার কন্টেন্টের বিরুদ্ধে যে কোন সময় যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নেবে। অনুরূপভাবে আপনি যদি google কন্টেন্ট পলিসি এর কন্টেন্ট রাইটিং গুগল এর নীতিমালা মেনে চলেন তাহলে গুগল আপনার কন্টেন্টের বিরুদ্ধে কোনরকম পদক্ষেপ নেবে না।

Google কনটেন্ট পলিসি এর নীতিমালা মেনে না চললে আপনার ওয়েবসাইটকে গুগল থেকে হাওয়া করে দেবে। সেই জন্য যেসব বিষয়ে কনটেন্ট লিখা যাবে না সেগুলো জেনে নেওয়া যাক-
  • প্রথমত কপিরাইট পোস্ট হওয়া যাবে না।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে কনটেন্ট হতে হবে।
  • বাচ্চাদের যৌন নির্যাতন ঘোষনা রয়েছে এমন কনটেন্ট লিখা যাবে না।
  • বিপদজনক ও বেআইনি অ্যাক্টিভিটি রয়েছে এমন কনটেন্ট লেখা যাবে না।
  • হিংসা ও রক্তপাত সম্পর্কিত কনটেন্ট হওয়া যাবে না।
  • অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনুমোদিত ছবি নির্ধারণ করা যাবে না।
  • ফিশিং সম্পর্কিত হওয়া যাবে না।
  • নিয়ন্ত্রিত পণ্য ও পরিষেবা সম্পর্কিত হওয়া যাবে না।
  • স্প্যাম সম্পর্কিত হওয়া যাবে না।
  • ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য থাকা যাবে না।
  • কনটেন্ট এর মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে এমন কোন তথ্য থাকা যাবে না।
  • কোন ব্যক্তির সম্পর্কে ভুল ধারণা বা মিথ্যা বিবেচনা করা যাবে না।
  • হুমকি স্বরূপ ও হয়রানি মূলক কনটেন্ট হওয়া যাবে না।

লেখকের শেষ কথা

আশা করছি, এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি এই বিষয়ে অল্প কিছু হলেও এই বিষয়ে জানতে সক্ষম হয়েছেন। গেস্ট ব্লগিং কী - সুবিধা অসুবিধা ও কিভাবে করবেন - গুগল কনটেন্ট পলিসি নিয়ে লেখা আমাদের আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগে থাকলে কমেন্ট ও শেয়ার করতে ভুলবেন না। স্বাস্থ্য, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত অন্যান্য আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আমাদের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url