কমলালেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা - দিনে কয়টা কমলালেবু খাওয়া উচিত

কমলালেবু হচ্ছে অনেক রসালো একটি সুস্বাদু ফল। কমলালেবু প্রায় কমবেশি সকলেই খেতে পছন্দ করি। আজকে আপনারা জানতে পারবেন কমলালেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা এবং দিনে কয়টা কমলালেবু খাওয়া উচিত সম্পর্কে। তাহলে আসুন, আর দেরি না করে কমলালেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা এবং দিনে কয়টা কমলালেবু খাওয়া উচিত সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
কমলালেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা - দিনে কয়টা কমলালেবু খাওয়া উচিত

আপনি যদি আমাদের সাথে শেষ পর্যন্ত পুরো পোস্টজুড়ে থাকেন তাহলে, কমলালেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা এবং দিনে কয়টা কমলালেবু খাওয়া উচিত সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন। আশা করছি, আমরা আপনাকে এমন কিছু পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করব যার মাধ্যমে আপনি উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।
পেজ সূচিপত্রঃ

ভূমিকা

কমলালেবু মানবদেহের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। কমলালেবুর আশ্চর্য স্বাস্থ্য উপকারিতা ছাড়াও এতে বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কমলালেবু প্রতিনিয়ত খেলে আমাদের ত্বক এবং হৃদপিণ্ডকে পুনরুজ্জীবিত করে। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় প্রচন্ড শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সকলেই কমলালেবুর উপর ভরসা রাখেন।

আজকের আলোচ্য বিষয়ে আমরা জেনে নেব কমলালেবু কি, কমলালেবু-এর পুষ্টিগুণ, কমলালেবুর উপকারিতা, কমলালেবুর অপকারিতা, কমলার খোসার উপকারিতা, কমলালেবু বেশি খেলে কী হয়? এবং দিনে কয়টা কমলালেবু খাওয়া উচিত। এ সকল বিষয়ে আপনার আমার সকলের জন্য জেনে নেওয়া উচিত। তাহলে চলুন, আর দেরি না করে কমলালেবুর সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

কমলালেবু কি

কমলালেবু হচ্ছে সাইট্রাস জাতীয় গাছের একটি রসালো ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Citrus reticulata (সাইট্রাস রেটিকুলাটা)। এই গাছটি প্রায় ৩-৪ মিটার উঁচু বা মাঝারি আকৃতির হয়ে থাকে। কমলা লেবুর ডালপালা কাঁটাযুক্ত হয় এবং দেখতে অনেকটা ঝোপঝারের মতো। এই গাছের ফুল কমনীয় এবং সুগন্ধিযুক্ত হয়।
কমলালেবুর ফুল শারীরিক শক্তি জোগাতে এবং জ্বর কমাতে সহায়তা করে। যাদের প্রস্রাবের বাধা রয়েছে তারা যদি নিয়মিত কমলালেবুর ফুল খেতে পারেন তাহলে তাদের প্রস্রাবের বাধা দূর হয়ে যাবে। কমলা লেবু কাঁচা অবস্থায় এটি সবুজ রঙের হয় এবং পাকলে লালচে রঙের হয়ে থাকে। এত কমলালেবু নিয়মিত খেলে হার্ট সুস্থ থাকে।

কমলালেবু-এর পুষ্টিগুণ

কমলালেবুতে অনেক স্বাস্থ্যকর পুষ্টিগুণ রয়েছে যেমন প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট, চিনি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি,ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম ইত্যাদি। এবার চলুন আমরা জেনে নিব গবেষণাগারের প্রেক্ষাপটে প্রতি ১৫০ গ্রাম কমলালেবুর রসের পুষ্টিগুন।
  • প্রোটিন (১.৫০ গ্রাম)
  • আয়রন (০.২ গ্রাম)
  • কার্বোহাইড্রেট (১৭.৭৫ গ্রাম)
  • খাদ্যশক্তি (৬৭ ক্যালোরি)
  • চর্বি (০.২৪ গ্রাম)
  • ফাইবার (২.৮ গ্রাম)
  • ভিটামিন এ (১৭ মাইক্রগ্রাম)
  • ভিটামিন সি (৭৯.৮ মিলিগ্রাম)
  • ভিটামিন ই (০.২৭ মিলিগ্রাম)
  • ক্যালসিয়াম (৬০ মিলিগ্রাম)
  • পটাশিয়াম (২৫০ মিলিগ্রাম)
  • ম্যাগনেসিয়াম (১৭ মিলিগ্রাম)
  • ফ্যাটি এসিড (০.০২৫ গ্রাম)

কমলালেবুর উপকারিতা

সর্দি কাশিতে নিরাময়ে: সর্দি কাশি নিরাময়ে কমলালেবু বেশ উপকারী। আপনি যদি কমালেবুর রসে মধু এবং লবণ ভালো করে মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে  সর্দি কাশি নিরাময় হয়ে যাবে।

হার্টের জন্য উপকারী: কমলালেবু স্বাস্থ্য করা  হার্টের জন্য উপকারী। এর ফুলের রস বুকে মালিশ করলে হার্ট সংক্রান্ত অনেক রোগ নিরাময় হয়। এটি ২০-৩০ মিলিগ্রাম খেলে হৃদরোগে উপকার পাওয়া যাবে।
ডায়াবেটিসে উপকারী: কমলা লেবু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। কমলার পাতা,ফুল এবং খোসা  একসাথে ভেজে তারপর এটি পিষে খেলে  ডায়াবেটিসের মাত্রা ও  একইসাথে প্রস্রাবের সমস্যা দূর হয়।

বমি বন্ধ করে: বমি বন্ধ করতে কমলালেবু অনেক ভূমিকা পালন করে। শুকনো  কমলা লেবুর খোসা গুড়া করে এতে জিরা,শুকনো আদা, এলাচ ইত্যাদি পরিমাণ মতো মিশিয়ে গুড়া তৈরি করতে হবে। এরপর এই পাউডারের হালকা লবণ মিশিয়ে পান করতে হবে তাহলেই বমি বন্ধ হয়ে যাবে।

পেট ব্যথা দূর করে: কমলালেবু পেট ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। কমলালেবুর সাহায্যে মুক্তি পেতে হলে ৫০০ মিলিগ্রাম কমলালেবুর খোসার গুড়া  বাটার মিল্ক দিয়ে পান করতে হবে তাহলে এটি বদ হজমের সমস্যা এবং পেট ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করবে।

বাতের চিকিৎসা: কমলালেবু বাতের চিকিৎসায় ভূমিকা পালন করে। কমলালেবুর ফুল এবং বাকল নিয়ে ভালো করে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এরপর সামান্য গরম করে ব্যথাযুক্ত স্থানে লাগাতে হবে।একটি ব্যথা এবং ফোলা উভয় ক্ষেত্রেই উপশম করতে  সহায়তা করে।

লিভার সুস্থ রাখে: কমলালেবু  লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। প্রতিনিয়ত নিয়ম মেনে কমলা লেবু খেলে লিভারের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায় এবং লিভার সুস্থ থাকে।

চর্ম রোগে উপকারী: কমলালেবু চর্ম রোগের ক্ষেত্রে যেমন খুশকি এবং চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তুমি কম হলে পাতা এবং ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে তারপর মাথার তালুতে বা মাষিতে ভালোভাবে দিতে হবে তাহলে খুশকি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। এছাড়াও এর পেষ্ট যাদের দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের চুলকানিজনিতভ রোগ রয়েছে তাদের   জন্যেও এটি উপকারী উপাদান।

ব্রণ নিরাময় করে: কমলালেবুর খোসা ব্রণ নিরাময় করতে সহায়তা করে। কমলালেবুর খোসা  শুকিয়ে নিয়ে ভালোভাবে পিষে নিতে হবে এরপর  পরিমানমতো গোলাপ জল মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে। তাহলে একটি মুখের ব্রণ দূর করার পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

মূত্রের সমস্যা নিরাময়ে: প্রতি ১০-২০ মিলিগ্রাম কমলালেবুর রস নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে সেটি খেলে কিডনির এবং মূত্রথলির প্রদাহ থেকে উপশম হবে। এর ফলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া সমস্যা ও প্রস্রাব কম হওয়া সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: কমলালেবুতে বিদ্যমান অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করার পাশাপাশি রক্তের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

কমলালেবুর অপকারিতা

বর্তমানে বাংলাদেশে শীতকাল আসলেই কমলালেবুর আধিপত্য বিস্তার করে। শরীরকে হাইড্রেট রাখার জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য কমলালেবু সহায়তা করে। টক ও মিষ্টি ফল আমরা প্রায় সকলেই পছন্দ করে থাকি। আমরা জানি লেবু অবশ্যই উপকারে একটি খাদ্য কিন্তু প্রতিটা খাদ্যে যেমন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে তেমনি পরিমাণে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ক্ষতিও হতে পারে।
কেননা কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, চিনি, ফাইবার, ক্যালোরি, প্রোটিন এবং ভিটামিন সি, তাই এটি অতিরিক্ত খাবার ফলে স্বাস্থ্যকে বেশি প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। কমলালেব অত্যাধিক খাওয়ার ফলে আমাদের দেহে যেগুলো সমস্যা হতে পারে সেগুলো হচ্ছে-
  • কমলালেবু অতিমাত্রায় খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • কমলালেবু অতিমাত্রায় খেলে বমি হতে পারে।
  • কমলালেবু অতিমাত্রায় খেলে পেট ব্যথা এবং পেটে ফাঁপা অনুভব হতে পারে।
  • কমলালেবু অতিমাত্রায় খেলে অনিদ্রা জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • কমলালেবু অতিমাত্রায় খেলে গ্যাস্ট্রিক, অম্বল, বদহজম ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।

কমলার খোসার উপকারিতা

কমলালেবুর খোসায় সুন্দর প্রাকৃতিক রসালো গন্ধ আছে যে আমরা খেতে পছন্দ করি। আপনার বাসা বাড়িতে যখন কমলা আসে, তখন সে কমলার খোসা ফেলে দেবেন না। কমলার খোসায় অজানা কিছু সুবিধা রয়েছে। কমলা ফল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হিসেবে স্বীকৃত কিন্তু অনেকেই জানেন না এর খোসা নরম ত্বকের জন্য একটি উপকারী উৎস।

কমলার খোসায় পলিফেনাল যথেষ্ট পরিমাণে থাকায় ডায়াবেটিস সহ দীর্ঘস্থায়ী রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সাহায্য করে। কমলার খোসায় যে অপরিহার্য তেল রয়েছে সেই তেলে প্রচুর পরিমাণে লিমোনিন রয়েছে যা ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধী হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও কমলার খোসায় উচ্চমানের ফাইবার বিদ্যমান থাকে যা হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

কমলালেবু বেশি খেলে কী হয়?

আমাদের অনেকেরই মধ্যে কমলালেবু বেশি খেলে কি হয় এই প্রশ্নটি জাগতে পারে। শীতকালে সর্দি কাশি থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও শীতকালে ঠান্ডার কারণে পানি খাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায় সেক্ষেত্রে কিন্তু কমলালেবু পানির বিকল্প হতে পারে। তাছাড়াও কমলালেবু ত্বকের যত্ন নিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কমলা লেবু স্বাস্থ্যকর খাবার হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত কোন খাবারই খাওয়া ভালো নয়।

কমলালেবু হজম শক্তি ঠিক রাখে কিন্তু অতিমাত্রায় খেলে পেতে ব্যথা জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও কমলালেবু হচ্ছে সাইট্রাস জাতীয় একটি ফল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কিডনির সমস্যা থাকলে এই সাইট্রাস জাতীয় ফল থেকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। আবার এলার্জিজনিত সমস্যা থাকলে কমলালেবু খুব বেশি না খাওয়ায় উত্তম। আশা করছি, কমলালেবু বেশি খেলে কি হয়? প্রশ্নের উত্তরটি জানতে পেরেছেন।

দিনে কয়টা কমলালেবু খাওয়া উচিত?

প্রাকৃতিকভাবে কমলা লেবু এসিড সমৃদ্ধ ফল। আমরা জানি ২০০ গ্রাম কমলালেবুতে প্রায় ৯৪ গ্রাম ক্যালরি, ০.১৮ গ্রাম প্রোটিন, ১৮.৮ চিনি, ফাইবার ৪.৮ গ্রাম এবং ৮০ শতাংশ ভিটামিন সি থাকে। তাই একটি সমৃদ্ধ হলেও পরিমিতভাবে খাওয়া উচিত। যে সকল ব্যক্তিদের গ্যাস্ট্রোইসোফেগাল রিফ্লাক্সজনিত রোগে আক্রান্ত রয়েছেন সে সকল ব্যক্তিরা অবশ্যই কম লেবু খাওয়ার পূর্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কারণ তারা যদি কমলা লেবু খায় তাহলে পেটের মধ্যে জ্বালাপোড়া সমস্যা হতে পারে যা অসুবিধাজনক। এছাড়াও যাদের ব্লাডে পটাশিয়ামের মাত্রা অধিক তাদেরকে খাবার পড়বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দিনে কয়টা কমলা লেবু খাওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞদের প্রেক্ষাপটে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনা দুইটা থেকে তিনটির বেশি কমলালেবু খাওয়া উচিত নয়। আশা করছি, এই প্রশ্নের উত্তরটি আপনি পরিপূর্ণভাবে পেয়েছেন।

শেষকথাঃ কমলালেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা এবং দিনে কয়টা কমলালেবু খাওয়া উচিত

সঠিক নিয়মে কমলালেবুর খাওয়ার ফলে এর উপকারিতা সহজেই পাওয়া যায়। আশা করছি, এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি এই বিষয়ে অল্প কিছু হলেও কমলালেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা এবং দিনে কয়টা কমলালেবু খাওয়া উচিত? এই সম্পর্কে জানতে সক্ষম হয়েছেন। যদি এই বিষয়ে আপনাদের মাঝে কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।

কমলালেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা এবং দিনে কয়টা কমলালেবু খাওয়া উচিত? নিয়ে লেখা আমাদের আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগে থাকলে কমেন্ট ও আপনার পরিচিতদের শেয়ার করতে ভুলবেন না। স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত অন্যান্য আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আমাদের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url