পাসপোর্ট কি - পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজ লাগে

প্রিয় পাঠক, পাসপোর্ট আবেদন করার পূর্বে আমাদেরকে এই বিষয়টা জানা প্রয়োজন যে পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজ লাগে। কারণ, এই বিষয়ে যদি সঠিকভাবে না জেনে থাকেন তাহলে অতিরিক্ত কাগজ সংগ্রহ করার জন্য আপনাকে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য, পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজ লাগে এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই আর্টিকেলে।
পাসপোর্ট কি - পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজ লাগে
আপনি যদি শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকেন তাহলে পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজ লাগে - পাসপোর্ট করার নিয়ম এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ভূমিকা

আপনি যদি এক দেশ থেকে অন্য দেশে বৈধভাবে ভ্রমণ করতে চান তবে সবার আগে প্রয়োজন হবে পাসপোর্ট। পাসপোর্ট হচ্ছে এমন এক পরিচয় পত্র যা যে কোন প্রান্তে নাগরিকত্বের পরিচয় দিয়ে থাকে। এই পাসপোর্ট ছাড়া আপনি এক দেশ হতে অন্য দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন না।

সেটা যে কোন ভ্রমণ পথ হোক না কেন আপনাকে পাসপোর্ট এর প্রয়োজন পড়বেই। সুতরাং যাদের পাসপোর্ট নেই বা যারা এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করতে যাচ্ছেন তাদেরকে পাসপোর্ট করার জন্য বা পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজ লাগে সে বিষয়ে জানা জরুরী।

পাসপোর্ট কি

প্রথমত, পাসপোর্ট হচ্ছে একজন নাগরিকের তার নিজের নাগরিকত্বের পরিচয় পত্র বলা হয়। প্রবাসে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা জরুরি হচ্ছে পাসপোর্ট। আবার, প্রবাসে ভ্রমণের জন্য এটি একটি অফিসিয়াল দলিল বলা হয়। কেননা পাসপোর্ট এর মধ্যে আপনার প্রবাসে ভ্রমণের জন্য অনুমতি সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী দেওয়া থাকে। আমাদের বাংলাদেশের সরকার জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকদের নাগরিত্বের পরিচয় পত্র হিসেবে পাসপোর্ট দিয়ে থাকেন।

পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করার আগে পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজ লাগে সেই বিষয়ে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। আপনি যদি পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজ লাগে এই বিষয়ে না জেনেই আবেদন করতে যান।

তাহলে অতি প্রয়োজনীয় একটা ডকুমেন্ট বাসায় ফেলে এসেছেন বা এখনো কালেক্ট করেননি সে ক্ষেত্রে আপনাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি হতে হবে বা সেই গুরুত্বপূর্ণ কাগজের জন্য আপনাকে পুনরায় বাসায় ফিরে আসতে হবে। এজন্য আমাদের সকলের উচিত সকল তথ্য ভালোভাবে জেনে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করা।

পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজ লাগে ২০২৩

পাসপোর্ট সঠিক নিয়মে জমা দিতে হলে নিম্নোক্ত ডকুমেন্টগুলি প্রয়োজন হবে:

  • সঠিকভাবে ফরম দুইটি পূরণ করতে হবে।
  • নিজের দুই কপি  ছবি পাসপোর্ট সাইজের ছবি আঠা দিয়ে লাগাতে হবে তবে আবেদনকারী যদি ১৫ বছরের কম হয় অর্থাৎ অপ্রাপ্ত বয়স হলে বাবা ও মায়ের দুই কপি করে রঙিন ছবি আঠা দিয়ে লাগাতে হবে।
  • একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে ফরমের চতুর্থ নম্বর পৃষ্ঠায় সত্যায়িত করে নিতে হবে।
  • জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম সনদপত্রের দুই কপি সত্যায়িত করে নিতে হবে।
  • ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, গাড়ি চালক অথবা অন্যান্য যেসব কারিগরি পেশায় জড়িতদের ক্ষেত্রে পেশাগত সনদপত্র সত্য করে সংযুক্ত করে নিতে হবে।
  • সরকারি আদেশ অর্থাৎ গভর্নমেন্ট অর্ডার বা জিও সংযুক্ত করতে হবে অফিসিয়াল পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে।
  • সরকারি কর্মকর্তা যারা অবসরপ্রাপ্ত তাদের ক্ষেত্রে পেনশন বুকের ফটো কপি সংযুক্ত করলে সাধারণ ফি তে জরুরী সেবা পাওয়া যাবে।

ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

বর্তমানে পাসপোর্ট আবেদন করা থেকে আবার সেই পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার জন্য আমাদেরকে  অনেক ভাবে বিভিন্ন রকম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। যা আমাদের জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা কে কিছুটা হলেও স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে  ই পাসপোর্ট আবেদন সেবা। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ই পাসপোর্ট এর জন্য কোন কাগজ এবং ছবি সত্যায়িত করতে হয় না। পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে সেগুলো নিম্নে দেওয়া হলঃ

পরিচয়পত্র: জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।

বাবা-মায়ের ভোটার আইডি: যারা অপ্রাপ্ত বয়স্ক পাসপোর্ট আবেদনকারী রয়েছে তাদের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের পাশাপাশি মা - বাবার ভোটার আইডি কার্ড এর নাম্বার।

কারিগরী সনদ: আবেদনকারী কারিগরি পেশার সাথে জড়িত থাকলে টেকনিক্যাল সনদপত্র আপলোড করতে হবে।

স্টুডেন্ট আইডি কার্ড: আবেদনকারী ছাত্র হলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড অথবা প্রত্যয়ন পত্রের মূল কপি ও ফটোকপি পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় সাথে নিতে হবে।

পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার রশিদ: ব্যাংকে ই পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার রশিদ দ সংগ্রহ সংগ্রহ করতে হবে।

পুরাতন পাসপোর্ট: ই পাসপোর্ট আবেদন করার পর আঞ্চলিক অফিসে যাওয়ার সময় অনলাইন আবেদনপত্রের ফটোকপি করে নিতে হবে।

ঠিকানার প্রমাণপত্র: ঠিকানার প্রমাণপত্র এর জন্য বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা ভিন্ন হলে স্থায়ী ঠিকানা নাগরিক সনদপত্র এবং বর্তমান ঠিকানা কমিশনার নাগরিক পত্র থাকতে হবে।

পুরাতন পাসপোর্ট: পাসপোর্ট রি-ইস্যু এর  ক্ষেত্রে পূর্বের পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হবে এবং আসল পাসপোর্ট আঞ্চলিক অফিসে নিয়ে যেতে হবে।

বৈবাহিক সনদ: বিবাহ সনদ বা নিকাহনামা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল করে নিতে হবে এবং পূর্বের পাসপোর্ট বা ভোটার আইডি কার্ডে অবিবাহিত থাকলে স্বামী বা স্ত্রীর ভোটার আইডি কার্ড আপলোড করতে হবে।

জিডি কপি: হারানো পাসপোর্ট পুনরায় ফিরে পাওয়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য পাসপোর্ট এর ফটোকপি ও জিডির ফটোকপি দিতে হবে এবং মূল যদি কবি প্রদর্শন করাতে হবে।

অপ্রাপ্ত বয়স্কদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

পাসপোর্ট আবেদনকারীর বয়স যদি ০৬ বছরের কম হয় সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট করতে যা প্রয়োজন:

  • 3R সাইজের (গ্রে ব্যাকগ্রউন্ড এর ল্যাব প্রিন্ট)  ছবি দাখিল করা প্রয়োজন।
  • পিতা অথবা মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র (NID) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করা জরুরী।
  • BRC English Version অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন।
পাসপোর্ট আবেদনকারীর বয়স যদি ১৮ বছরের কম হয় সে ক্ষেত্রে পাসপোর্ট করতে যা লাগবে:
  • পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র অর্থাৎ এনআইডি কার্ড উল্লেখ থাকতে হবে।
  • BRC English Version অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন।
পাসপোর্টআবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছর হলে পাসপোর্ট করতে যাওয়া লাগবে:
  • জাতীয় পরিচয় পত্র
  • BRC English Version অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
মুখ্য বিষয় হচ্ছে পাসপোর্ট আবেদনকারীর বয়স যদি ২০ বছরের বেশি হয় তবে ভোটার আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক থাকতে হবে। তবে প্রবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন বা দূতাবাসে পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে BRC English Version অনলাইন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করা সম্ভব।

বাচ্চাদের ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

  • ই পাসপোর্ট আবেদন অনলাইন কপি অর্থাৎ প্রিন্ট কপি।
  • নাগরিক সনদপত্র।
  • পাসপোর্ট ফি প্রদানের স্লিপ অর্থাৎ মুলকপি।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ফটোকপি এবং মূলকপি উভয়ই লাগবে।
  • পাসপোর্ট অ্যাপ্লিকেশন সামারি প্রিন্ট কপি।
  • যাদের আগের পাসপোর্ট আছে তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন পূর্ববর্তী পাসপোর্ট এর ফটোকপি এবং মূল কপি।

পাসপোর্ট করতে পেশা সম্পর্কিত কি কি কাগজ লাগে

ছাত্র-ছাত্রীদের  পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে: ছাত্র-ছাত্রীদের পাসপোর্ট আবেদনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র সংগ্রহ করতে হবে। এরপর স্টুডেন্ট আইডি কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।

সরকারি চাকুরীজীবীদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পাসপোর্ট এর আবেদন করতে গো অথবা এনওসি (GO/NOC) দাখিল করতে হবে। অপরদিকে যারা অবসরপ্রাপ্ত রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে পেনশন বুক বা PRL Order  সংগ্রহ করতে হবে।

কৃষকদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে: পাসপোর্ট আবেদনে কৃষকদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সংগ্রহের মধ্যে অন্যতম কাগজ হচ্ছে জমির পরিচর্যা এর ফটোকপি দাখিল করতে হবে।

ব্যবসায়ীদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে: ব্যবসার জন্য পাসপোর্ট আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে প্রথমত প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স কপি লাগবে এবং দ্বিতীয়ত বায়োমেট্রিক এর সময় মূল কপি সাথে নিয়ে যেতে হবে।

বৈবাহিক পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে: যদি অবিবাহিত উল্লেখ করা থাকে তাহলে কোন ডকুমেন্ট প্রদর্শন বা দেখানো জরুরী নয়। বিবাহিত উল্লেখ করা থাকলে বিবাহ সনদপত্র লাগবে এবং নামের শেষে স্বামীর পদবীর লোক থাকতে হবে। স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই ভোটার আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

লেখকের শেষ কথা

আশা করছি, এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি এই বিষয়ে অল্প কিছু হলেও এই সকল বিষয়ে জানতে সক্ষম হয়েছেন। পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজ লাগে - পাসপোর্ট করার নিয়ম এই বিষয়ে নিয়ে লেখা আমাদের আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগে থাকলে কমেন্ট ও শেয়ার করতে ভুলবেন না। স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত অন্যান্য আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আমাদের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url