এন্টিবায়োটিক ওষুধ সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম - এন্টিবায়োটিক এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, সকলকে আমার ওয়েবসাইটে স্বাগতম জানাচ্ছি। বর্তমানে আমরা বিভিন্ন জটিল রোগের জন্য বিভিন্ন ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ খেয়ে থাকি কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম অনেকেই জানিনা। এজন্য আজকে আমরা আজকে এই আর্টিকেলে এন্টিবায়োটিক ঔষধ সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেব।
এন্টিবায়োটিক ঔষধ সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম - এন্টিবায়োটিক এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আপনি যদি কিছুক্ষন অপচয় করে আমাদের সাথে শেষ পর্যন্ত থাকেন তাহলে, এন্টিবায়োটিক ঔষধ সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম এবং এন্টিবায়োটিক এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারবেন। আশা করি, আমরা আপনাকে এমন কিছু পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করব যার মাধ্যমে আপনি উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।
পোষ্ট সূচিপত্রঃ

ভূমিকা

এন্টিবায়োটিক ঔষধ খাওয়ার নির্দিষ্ট ডোজ রয়েছে। যেগুলো মেনে খাওয়াটা অত্যন্ত জরুরী। আমরা আমাদের বিভিন্ন জটিল রোগ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেয়ে থাকি কিন্তু এন্টিবায়োটিক ঔষধ খাওয়ার নিয়মটি আমরা জানতে চাই না। তবে আমরা যদি সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম মেনে ঔষধ না খায় তাহলে আরও বিভিন্ন রকম রোগ দেখা দিতে পারে এবং শরীরের মধ্যে দুর্বলতা চলে আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এন্টিবায়োটিক ঔষধ কত দিন খেতে হয় বা কত ঘন্টা পর খেতে হয় সেই বিষয়টি জানতে হবে। এজন্যে আমরা পুরো পোস্ট জুড়ে এন্টিবায়োটিক ঔষধ সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম, অ্যান্টিবায়োটিক এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের আরো অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নিবে। তাহলে আসুন আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক।

অ্যান্টিবায়োটিক কি

অ্যান্টিবায়োটিক হচ্ছে কয়েক ধরনের জৈব রাসায়নিক ঔষধ যে ব্যাকটেরিয়া গুলোকে ধ্বংস করে। ব্যাকটেরিয়া গুলো নিজেরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অগ্রসর হতে পারে না বিধায় নিজেদের অঞ্চলের মধ্য থেকে তাদের খাদ্য সংগ্রহ করার কারণে তারা একই অঞ্চলে থাকা অন্য অনুযায়ীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক এক ব্যাকটেরিয়া কে ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

এন্টিবায়োটিক ঔষধ সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম

সাধারণত চিকিৎসকরা এন্টিবায়োটিক ঔষধ দিনে তিনবার বা চারবার ছয় থেকে আট ঘন্টা পর পর ঔষধ খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। যেমন আপনার যখন অতিরিক্ত জ্বর হয় তখন নরমাল ঔষধ খেয়ে আপনার জ্বর ভালো না হলে ঠিক তখন কিন্তু পরামর্শে তাকে এন্টিবায়োটিক খেতে বলা হয় এবং আপনাকে নিয়ম মেনে ফুল ডোজ ঔষধ খেতে হয়।

তবে আপনি যদি ভুল বশতে একটি দোষ খেতে ভুলে যান তবে পরবর্তী ডোজ খেতে হবে কিন্তু পরিশেষে আপনি অতিরিক্ত কোন ডোজ খেতে পারবেন না এর ফলে আপনার সমস্যা হতে পারে। অপারেশন করা হলে বা প্রচন্ড ব্যথার ক্ষেত্রে সেই ব্যথা নিরাময় করার জন্য আমাদেরকে এন্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রয়োজন হয়।
কিন্তু, অনেকেই নিয়ম-নীতি মেনে এন্টিবায়োটিক ঔষধ খায় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন অ্যান্টিবায়োটিকই খাওয়া উচিত হবে না। সাধারণত এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেলে আমাদের শরীর সহজে দুর্বল হয়ে পড়ে এজন্য এন্টিবায়োটিক ঔষধ খাওয়ার পাশাপাশি পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার এবং ফলমূল খেতে হবে তা না হলে বিভিন্ন রকম মানসিক রোগের সৃষ্টি হয় সম্ভাবনা রয়েছে।

এন্টিবায়োটিক ঔষধ আপনি অবশ্যই ভরা পেতে খাবেন। খালি পেটে এই ঔষধ কোনভাবেই খাওয়া যাবে না। তা না হলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের  ডোজ চলমান রয়েছে কিন্তু রোগ ইতিমধ্যে ভালো হয়ে গেছে সে ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিকের ডোজ পরিপূর্ণ না করেই ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে দেয় এতে কিন্তু নানান রকম সমস্যা সৃষ্টি হয়।

কারণ কিছুদিন পর যদি সেই রোগ আবার জেগে ওঠে এবং সে যদি ৫০০ মিগ্রা বা পাওয়ার এন্টিবায়োটিক ঔষধ খায় তবে সেটা কাজে লাগবে না। তখন আরো বেশি ঔষধ খাওয়া লাগতে পারে। চিকিৎসকরা রোগীদেরকে ভালোভাবে পরীক্ষা করে এন্টিবায়োটিক ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

খেয়াল করবেন আপনি যখনই এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেতে শুরু করবেন এবং নিয়ম না মেনে ঔষধ খাবেন দেখবেন আপনার অন্যরকম সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ঠিক তখনই বুঝতে হবে যে আপনার এন্টিবায়োটিক এর জন্যই সমস্যাগুলি হচ্ছে। কোন রকম সমস্যা যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেতে হবে। একজন চিকিৎসকের দেয়া নিয়ম নীতিগুলো মেনে চললে আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন।

অ্যান্টিবায়োটিক কেন ব্যবহার করা হয়

বর্তমানে এন্টিবায়োটিক ঔষধ খাইনি এমন মানুষ খুব কম রয়েছে। এন্টিবায়োটিক ঔষধ এখন একটি কমন ঔষধ হয়ে গিয়েছে। এই অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের দেশেও অনেক ব্যবহার হচ্ছে। তবে বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিকের ফলাফল উল্টো যে অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে, সে অ্যান্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে জীবাণু উল্টে প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে করে উঠছে।

এন্টিবায়োটিক ঔষধ সাধারণত ব্যাকটেরিয়াকে মারতে ব্যবহার করা হয়। এন্টিবায়োটিক হচ্ছে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া দমনের ঔষধ। আমাদের শরীরে ব্যাকটেরিয়ার কারণে যতসব ইনফেকশন জাতীয় সমস্যা হয়। তবে মনে রাখার প্রয়োজন অ্যান্টিবায়োটিক কখনোই ভাইরাসের বিপক্ষে কাজ করে না বরং এন্টিবায়োটিক ঔষধ শুধু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। এন্টিভাইরাল নামক মেডিসিন ভাইরাস দমনে ব্যবহৃত হয়।

এন্টিবায়োটিক খেলে কি কি খাওয়া যায় না

এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেলে চিকিৎসকরা কিছু কিছু খাবার খাওয়া থেকে দূরে থাকতে বলেন। এবার আসুন আমরা জেনে নেই এন্টিবায়োটিক খেলে কি কি খাওয়া যায় না।
কফি: উচ্চ পাহাড়ের এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেলে কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এন্টিবায়োটিক এর সাথে কফি নিচে গেলে শরীরের মধ্যে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যার ফলে, আমাদের শরীরে ব্যাপকভাবে ক্ষতি হতে পারে।

অ্যালকোহল: অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের ডোজ চলাকালীন অ্যালকোহল খাওয়া শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতি। কারণ অ্যালকোহল জাতীয় খাবার এন্টিবায়োটিককে কোন কাজ করতে দেয় না বরং আরো বিপদের দিকে ঠেলে দেয়।

টক জাতীয় খাবার: চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, এন্টিবায়োটিক ঔষধের ডোজ চলাকালীন যে সকল খাবারে এসিডের মাত্রা সবচেয়ে বেশি সেসব খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত হবে না। কারণ যুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে এন্টিবায়োটিকের কোন কাজ হয় না।

আয়রন যুক্ত খাবার: এন্টিবায়োটিকের দোষ চলাকালীন আয়রনযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। কফি অ্যালকোহল এবং টক জাতীয় খাবারের পাশাপাশি আয়রনযুক্ত খাবারের খাওয়ার ফলেও এন্টিবায়োটিককে কাজ করতে দেয় না।

এন্টিবায়োটিক এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকারক জীবাণুগুলোকে নষ্ট করে ফেলার পাশাপাশি মানব দেহের ভালো ব্যাকটেরিয়া গুলো কেউ নষ্ট করে দেয়। এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার অনেক বেশি হলে আপনার শরীরে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এজন্য চিকিৎসক যেভাবে পরামর্শ দেবেন সে অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক এর ডোজ পরিপূর্ণ করা লাগবে। আপনি যদি চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এন্টিবায়োটিক ঔষধ খান তাহলে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে সংক্রমণ আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন -
  • বমি বমি ভাব হওয়া।
  • পেটে ব্যথা হওয়া।
  • ডায়রিয়ার সংক্রমণ দেখা দেয়।
  • বিভিন্ন মাংসপেশিতে টান বা ব্যথা অনুভব হওয়া।
  • মলের সাথে রক্তপাত হওয়া।

লেখকের শেষকথা


আশা করছি, এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি এই বিষয়ে অল্প কিছু হলেও এন্টিবায়োটিক ঔষধ সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম এবং এন্টিবায়োটিক এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এই সম্পর্কে জানতে সক্ষম হয়েছেন। যদি এই বিষয়ে আপনাদের মাঝে কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।

এন্টিবায়োটিক ঔষধ সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম এবং এন্টিবায়োটিক এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে লেখা আমাদের আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগে থাকলে কমেন্ট ও আপনার পরিচিতদের শেয়ার করতে ভুলবেন না। স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত অন্যান্য আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আমাদের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url